সাইকেল ভ্রমণ / শ্রীলঙ্কা / বাইকপ্যাকিং / দম্পতির অভিযান
লঙ্কাচক্র: সাইকেলে শ্রীলঙ্কার চারদিকে ১,৫০০ কিলোমিটার
সুবাহকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীলঙ্কার চারদিকে সাইকেলযাত্রা— ২১ রাইডিং ডে, তীব্র গরম, হেডউইন্ড, অফিসের কাজ, বন্যপ্রাণী আর অচেনা মানুষের ভালোবাসা।

একটি দ্বীপের চারদিকে বৃত্ত
২০২৬ সালের ২৫ জুন আমার স্ত্রী সুবাহ আর আমি দুই সাইকেল নিয়ে ঢাকা ছাড়ি। লক্ষ্য পরিষ্কার: সাইকেলে শ্রীলঙ্কার চারদিকে ঘুরব। অভিযানের নাম দিই লঙ্কাচক্র—দ্বীপ ঘিরে একটি সম্পূর্ণ বৃত্ত।
কলম্বোর কাছে নেমে সাইকেল জোড়া লাগানো, সরঞ্জাম গোছানো আর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা শেষে ২৯ জুন প্যাডেল চালানো শুরু করি। বিশ্রামের দিন বাদ দিয়ে ২১ রাইডিং ডেতে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়েছি।
ঘড়ির কাঁটার দিকে রুটটি গেছে কলম্বো থেকে পুত্তালাম, মান্নার ও জাফনা হয়ে পয়েন্ট পেদ্রো; তারপর পূর্ব উপকূল ধরে মুল্লাইতিভু, ত্রিঙ্কোমালি, পাসিকুদা, কালমুনাই ও পোত্তুভিল; সেখান থেকে ভেতরের পথে কাতারাগামা এবং আবার দক্ষিণ ও পশ্চিম উপকূলে ফিরে তাঙ্গালে, ডন্ড্রা হেড, গল ও ওয়াদ্দুওয়া হয়ে কলম্বো।


আমাদের চেষ্টা ছিল ব্যবহারযোগ্য রাস্তা যতটা অনুমতি দেয়, দ্বীপের বাইরের কিনারা ধরে থাকা। কিন্তু নিখুঁত উপকূলীয় বৃত্ত সম্ভব ছিল না। উত্তর-পশ্চিমে উইলপাত্তু ন্যাশনাল পার্ক, দক্ষিণ-পূর্বে ইয়ালা ন্যাশনাল পার্ক, আর কোক্কিলাইয়ে পানির কাছে এসে রাস্তা থেমে গেছে। এগুলো মূল পরিকল্পনা থেকে সরে যাওয়া নয়; দ্বীপ আমাদের যে পথ দিয়েছে, সেটিই লঙ্কাচক্রের পথ।
দুই সাইকেল, চলন্ত অফিস
আংশিক খুলে কার্ডবোর্ডের বাক্সে সাইকেল দুটি ঢাকা থেকে গেছে। নিজের সাইকেলটি আগে থেকেই ছিল; অভিযানের জন্য সেটি বদলে নিয়েছি। সুবাহ বিদেশে থাকে, তাই তার সাইকেল বাংলাদেশে কিনে তৈরি করেছি। এয়ারলাইনের স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট সার্ভিসে পরিবহনটা আশঙ্কার তুলনায় সহজ হয়েছে; দুটি বাক্সই অক্ষত পৌঁছেছে।

আমরা কেউই চাকরি থেকে পুরো ছুটি নিইনি। পরিকল্পনা ছিল সকালে সাইকেল চালানো, দুপুরে থেমে অফিসের কাজ, আবার বিকেলে রাইড এবং রাতের থাকার জায়গায় পৌঁছে আরও কাজ। বাস্তবে অভিযানটি চলন্ত রিমোট অফিসে পরিণত হয়েছিল। কোনো কোনো সকাল কিলোমিটার দিয়ে নয়, জমে থাকা কাজ দিয়ে শুরু হয়েছে।
আগে থেকে থাকার জায়গাও খুব কম বুক করেছি। সকালে ৬০–৮০ কিলোমিটার দূরের কোনো শহরকে সম্ভাব্য গন্তব্য ধরতাম। বিকেলে গরম, বাতাস আর শরীর পরিকল্পনাটির কী অবস্থা করেছে দেখে আবার সিদ্ধান্ত নিতাম। তারপর গেস্টহাউসে ফোন। কঠিন দিনে রাত নয়টা বা দশটায় পৌঁছেছি।
উত্তরের পথে ছন্দ খোঁজা
প্রথম দিন ইচ্ছা করেই ছোট রেখেছি—কলম্বো থেকে পামুনুগামা, প্রায় ৩০ কিলোমিটার। তারপর চিলাও ও পুত্তালাম হয়ে উইলপাত্তুর কারণে ভেতরের পথ ধরে আবার মান্নারের দিকে ফিরেছি।
সাইকেলের গতিতে শ্রীলঙ্কার গ্রামগুলো ধীরে ধীরে পড়া যায়। ছোট জনপদও আশ্চর্য পরিষ্কার। সাধারণ বাড়ির সামনে ফুল, গাছ ও যত্নে রাখা বাগান। বিলাসিতা নয়, প্রথম যে জিনিসটি চোখে পড়েছে তা হলো যত্ন। রাস্তার পাশে থামলে কেউ না কেউ এসে জিজ্ঞেস করেছেন, কোনো সাহায্য দরকার কি না।
মান্নার থেকে জাফনার দিনে প্রায় ১২০ কিলোমিটার—অভিযানের প্রথম ১০০ কিলোমিটারের দিন এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘতম রাইড। পরদিন পয়েন্ট পেদ্রোর দিকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার। সাইকেল ভ্রমণে পারফরম্যান্স সরল রেখায় চলে না; এক দিন শরীর ১২০ কিলোমিটার দেয়, পরদিন ৩৫-ই যথেষ্ট।
শ্রীলঙ্কার উত্তর প্রান্তে পৌঁছানো মানসিক মানচিত্র বদলে দিল। পয়েন্ট পেদ্রো পর্যন্ত প্রতিটি কিলোমিটার আমাদের কলম্বো থেকে দূরে নিয়েছে। এবার প্রথমবার আমরা দক্ষিণমুখী।

গরম, উল্টো বাতাস আর থেমে যাওয়া রাস্তা
সবচেয়ে বড় শারীরিক সমস্যা ছিল গরম। শুরুর দিকে সুবাহর হাতে তীব্র সানবার্ন হয়ে পানিভরা ফোসকা পড়েছিল। রাতে কিছুটা কমে, রোদে বের হওয়ার পর আবার ফিরে আসে। শরীর অভ্যস্ত হতে শুরু করার আগে প্রায় এক সপ্তাহ এই চক্র চলেছে।
কঠিন দুপুরে গতি প্রায় হারিয়ে যেত; কোনো কোনো সময় দশ মিনিট পরপর থামতে হয়েছে। ঘড়ির কাঁটার দিকে যাওয়ার একটি কারণ ছিল উত্তরের পথে মৌসুমি বাতাসের সহায়তা পাওয়া। ভেবেছিলাম, শুরুটা সহজ হলে আমরা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হতে পারব। পয়েন্ট পেদ্রোর পর সেই কৌশলই উল্টো হলো। দক্ষিণমুখী পথে একই বাতাস বারবার হেডউইন্ড হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে।
কোক্কিলাইয়ের কাছে উপকূলীয় রাস্তা পানিতে থেমে গেল। সাইকেল নিয়ে সামনে যাওয়ার ব্যবহারযোগ্য রাস্তা নেই। তাই নিজেদের এবং বোঝাই দুই সাইকেলকে ছোট স্থানীয় নৌকায় তুললাম। প্রায় দশ মিনিট পর অন্য পারে নেমে ত্রিঙ্কোমালির দিকে আবার প্যাডেল চালানো শুরু। মুল্লাইতিভু থেকে সেদিনের মোট পথ প্রায় ৯৫ কিলোমিটার।

আরও দক্ষিণে সামনে এসেছে দীর্ঘ উপকূলীয় রাস্তা, সবুজ মাঠ আর এমন খোলা অঞ্চল, যেখানে বাতাসের লুকানোর জায়গা নেই।

মানুষ ও বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি থাকা
শ্রীলঙ্কার বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো। তবে আমাদের সবচেয়ে বেশি মনে আছে সাধারণ মানুষের বসতির মধ্যেই প্রাণীদের নিয়মিত উপস্থিতি। গ্রামের রাস্তা পার হয়েছে ময়ূর, বাড়ির কাছে ঘুরেছে গুইসাপ, গাছ থেকে তাকিয়েছে বানর, আর পাখিতে ভরা জলাভূমিতে নিশ্চিন্তে থেকেছে মহিষের পাল।
মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণীগুলোকে আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় কম ভীত মনে হয়েছে। সাইকেলের ধীর গতি থেকে মনে হয়েছে, মাঠ, জলাভূমি ও রাস্তা ভাগ করে থাকার বহু প্রজন্মের অভ্যাস এখানে দৃশ্যমান। এর অর্থ বুনো হাতির ঝুঁকি কম নয়, কিংবা দূরত্ব মানার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি। বরং এটি দেখিয়েছে, পাশাপাশি থাকতে থাকতে মানুষ ও প্রাণী কীভাবে একে অন্যের সীমা চিনতে শেখে।

রাস্তার পাশের ছোট পুরস্কার
দীর্ঘ সাইকেলযাত্রা খাবারের অর্থ বদলে দেয়। খাবার হয়ে ওঠে জ্বালানি, পানীয় পথের চিহ্ন, আর ছোট রাস্তার দোকানও দুপুরের প্রধান ঘটনা।
রাইস অ্যান্ড কারি ছিল ভরসার খাবার—সাশ্রয়ী, প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যায় এবং দুই ক্ষুধার্ত সাইক্লিস্টকে ভরিয়ে দিতে পারে। খেয়েছি কোত্তু, সাম্বোল, মাছ আর বাড়ির সামনের দোকানের ফল। আগুনে পোড়ানো বা সেদ্ধ ভুট্টা বিশেষ প্রিয় হয়ে উঠেছিল। আর ছিল জুসের দোকান। গরমে সামনে একটি ভালো দোকান দেখা গেলে আলোচনা লাগত না; দুই সাইকেলই থামবে।
দোকানের খাবারের চেয়ে মানুষগুলো আরও বেশি মনে আছে। এক দোকানি মোটরসাইকেলে আমাদের পেছনে এসে দুইটি ঠান্ডা পানীয় দিয়েছেন—দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নাকি খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। এক রাম্বুটান বিক্রেতা চাওয়ার দ্বিগুণ ফল দিয়ে টাকা নিতে অস্বীকার করেছেন; আমরা তাঁর দেশের অতিথি। আরেক ফলের দোকানে একটি পরিবার বাড়তি কলা ও এক ব্যাগ বাদাম দিয়েছে, কারণ সামনে এগোতে আমাদের শক্তি লাগবে।

ছোট ছোট ঘটনা, কিন্তু এতবার ঘটেছে যে তারাই পুরো যাত্রার চরিত্র তৈরি করেছে।
ভাত, কোত্তু আর হপার
শ্রীলঙ্কার খাবার আমাদের খুব ভালো লেগেছে। বৈচিত্র্য ও পরিমাণ—দুই দিক থেকেই দীর্ঘ সাইকেল চালানোর পর স্থায়ী ক্ষুধার জন্য একেবারে উপযুক্ত।
ছবির প্রথম প্লেটে ভাতের চারদিকে নানা পদ—বিনস, সবজি, শাক, সাম্বোল ও চিংড়ি; এক খাবারেই অনেক স্বাদ ও গঠন। কোত্তু ছিল ভারী খাবার: পরোটা কুচি করে চিকেন, সবজি ও অল্প গ্রেভির সঙ্গে রান্না। হপার তুলনায় হালকা, বাটির মতো পাতলা পিঠা; সকাল বা সন্ধ্যায় নারকেলের সাম্বোল কিংবা পেঁয়াজের গ্রেভির সঙ্গে খাওয়া হয়। কিছু হপার সাদা, কিছুটির মাঝখানে ডিম।
এই খাবারগুলো অভিযানের ভূগোলের অংশ হয়ে গিয়েছিল। রাইস অ্যান্ড কারি কঠিন দুপুরের পর শরীর ফিরিয়ে দিয়েছে, কোত্তু দীর্ঘ রাইডিং ডে শেষ করেছে, আর রাস্তা গরম হওয়ার আগে হপার থামার সহজ অজুহাত দিয়েছে।

সূর্য ডোবার পরের বন
কাতারাগামার দিকে বনপথের মুখে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দিনের আলো হারিয়ে যাচ্ছিল।
স্থানীয়রা সামনে না যেতে বললেন। এই পথে বুনো হাতি চলে; চিতাবাঘও থাকতে পারে। কাছে থাকার জায়গা নেই, আর ফিরে গেলে ভুল দিকে প্রায় দশ কিলোমিটার সাইকেল চালাতে হবে। আমরা তখন ক্লান্ত। তবু সামনে এগোলাম।
কয়েক কিলোমিটার পর মোটরসাইকেলে এক ব্যক্তি আমাদের দেখে সাইকেলের গতিতে নেমে এলেন। পাশাপাশি চলতে চলতে কখনো সাহসের প্রশংসা করছিলেন, আবার কখনো জীবন নিয়ে আমাদের কোনো মায়া আছে কি না জানতে চাইছিলেন। কথার ভঙ্গি ছিল চিন্তিত বাবার মতো।
আরও সামনে একটি ফরেস্ট অফিসের কর্মীরা অন্ধকারে দুই সাইক্লিস্টকে রিজার্ভে ঢুকতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে একটি ট্রাক্টর এল। দুই কর্মকর্তা বললেন, এখন আর সাইকেলে এগোনো নিরাপদ নয়। সাইকেল দুটি ট্রাক্টরে তুলে বিপজ্জনক অংশটুকু আমাদের পার করে দিলেন। রাত নয়টার পর বনপথের অন্য পাশে নামিয়ে দেওয়ার সময়ও সামনে আট–দশ কিলোমিটার বাকি।
রাত দশটার দিকে কাতারাগামায় পৌঁছে দেখি সম্পূর্ণ অন্য পৃথিবী। শহরে উৎসব চলছে—আলোকসজ্জা, ভিড় আর সাজানো রাস্তা। সেই একটি সন্ধ্যাতেই লঙ্কাচক্রের অনেকটা ছিল: ক্লান্তি, অনিশ্চয়তা, বন্য প্রকৃতি, অপ্রত্যাশিত সহায়তা আর এমন এক সমাপ্তি, যা কোনো পরিকল্পনায় লেখা যায় না।

পরিকল্পনায় না থাকা চার দিন
বন ও কাতারাগামার পর ৮৭ কিলোমিটারের একটি দিন আমাদের আবার সমুদ্রের কাছে তাঙ্গালে নিয়ে গেল। পৌঁছেছি দেরিতে, থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন হচ্ছিল। শেষে অনলাইনে পাওয়া দিনুরি ভিলা নামের একটি ছোট হোমস্টেতে ফোন করি। মালিক শিরোমি দিদি পানীয় দিয়ে স্বাগত জানালেন। পরদিন সকালের নাশতা আমাদের পরিকল্পনা ভেঙে দিল।
এক দিন বাড়ল, তারপর আরও এক দিন। শেষ পর্যন্ত চার দিন।
অতিরিক্ত সময়ে এলা, নুওয়ারা এলিয়া বা ক্যান্ডি যাওয়ার কথা ছিল। বদলে আমরা বিশ্রাম নিয়েছি, কাজ করেছি, ঘরের রান্না খেয়েছি আর তাঙ্গালের নির্জন পাথুরে উপকূল দেখেছি। কোথাও না যাওয়ার কারণেই এটি সঠিক ডিট্যুর ছিল।

দক্ষিণ প্রান্ত থেকে বৃত্তের শেষ পথে
তাঙ্গালে থেকে আবার সাইকেলে পশ্চিমমুখী হলাম। ডন্ড্রা হেডে ভারত মহাসাগরের পাশে দাঁড়িয়ে সাদা বাতিঘর। একই যাত্রায় এবার শ্রীলঙ্কার উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ—তিন প্রান্তেই পৌঁছানো হলো।

মিরিসা ও গল পেরিয়ে ওয়াদ্দুওয়া পর্যন্ত উত্তরে উঠেছি। শেষ সকালে ধীরে ধীরে পরিচিত রাস্তা ফিরে আসতে শুরু করল। কলম্বো আর শুধু যাত্রা শুরুর শহর নয়; এখানে এসে রেখাটি নিজের সঙ্গে মিলবে।
শেষে খুব বেশি উদ্যাপন হয়নি। সাইকেল আবার খুলে বাক্সে ঢোকাতে হয়েছে, সরঞ্জাম গুছিয়ে ফিরতি ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত করতে হয়েছে। শেষ স্ট্র্যাপ লাগানোর পরই অভিযানটি সত্যি শেষ মনে হয়েছে।
বৃত্তের ভেতরে যা ছিল
প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার লঙ্কাচক্রকে একটি আকার দেয়, কিন্তু স্মৃতিতে দূরত্ব সবচেয়ে শক্তিশালী নয়। মনে আছে তীব্র গরম, সানবার্ন, অফিসের ডেডলাইন, হেডউইন্ড আর রাতে কোথায় ঘুমাব সেই অনিশ্চয়তা। পাশাপাশি রাস্তার জুস, বিশাল খাবার, নির্জন সৈকত, গ্রামের ময়ূর, বাড়ির কাছে গুইসাপ, বানর, হরিণ এবং হাতির এলাকার বাস্তব ঝুঁকি।
সবচেয়ে বেশি মনে আছে সেই মানুষদের, যাঁরা দুই বিদেশি সাইক্লিস্টকে ক্রেতা নয়, অতিথি হিসেবে দেখেছেন। ধীরে ভ্রমণ করেছিলাম বলেই পরিচয়গুলো ঘটার মতো সময় পেয়েছে।
সাইকেলে একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলাম। ফিরে এসেছি এমন এক দ্বীপের অনেক পূর্ণ ছবি নিয়ে, যা শুধু মানচিত্রের রুট লাইন কোনো দিন দেখাতে পারবে না।

শ্রীলঙ্কা · প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার · ২১ রাইডিং ডে, বিশ্রামের দিন বাদে
পথ
কলম্বো → পুত্তালাম → মান্নার → জাফনা → পয়েন্ট পেদ্রো → মুল্লাইতিভু → ত্রিঙ্কোমালি → পোত্তুভিল → কাতারাগামা → তাঙ্গালে → ডন্ড্রা হেড → গল → কলম্বো
সময়রেখা
- ২৫ জুন ২০২৬ — কার্ডবোর্ডের বাক্সে দুই সাইকেল নিয়ে ঢাকা ছাড়ি।
- ২৯ জুন — কলম্বো থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে যাত্রা শুরু।
- উত্তরের পথ — পুত্তালাম ও মান্নার হয়ে জাফনা; ১২০ কিলোমিটারের মান্নার–জাফনা পর্বটি ছিল দীর্ঘতম দিন।
- পয়েন্ট পেদ্রো — দ্বীপের উত্তর প্রান্তে পৌঁছে দক্ষিণমুখী হই।
- পূর্বের পথ — কোক্কিলাইয়ে স্থানীয় নৌকায় পার হয়ে ত্রিঙ্কোমালি, পাসিকুদা ও পোত্তুভিলের পথে এগোই।
- কাতারাগামা — অন্ধকারের পর বিপজ্জনক বনপথে ফরেস্ট অফিসাররা ট্রাক্টরে সাইকেলসহ আমাদের পার করে দেন।
- দক্ষিণ ও পশ্চিমের পথ — ডন্ড্রা হেড ও গল হয়ে উপকূল ধরে কলম্বোয় ফিরে বৃত্ত সম্পূর্ণ করি।
আরও পড়ুন

অভিযান
বঙ্গচক্র: বাংলাদেশের সীমান্তরেখা ধরে ৫,০০০+ কিলোমিটারের সাইকেল অভিযান
বাংলাদেশের প্রান্ত ঘিরে পরিকল্পিত ৯০ দিনের সাইকেলযাত্রার অংশীদারিত্ব প্রস্তাব। প্রায় ৪০ জেলার মানুষ, পথ ও গল্পকে কমিউনিটি রাইড এবং মাঠপর্যায়ের কনটেন্টে যুক্ত করার উদ্যোগ।

অভিযান
সুরমা–সুন্দরবন: বাংলাদেশে পরিকল্পিত একক কায়াক অভিযান
বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের পরিকল্পিত একক কায়াক অভিযান। ইনতিয়াজ মাহমুদের সঙ্গে নদী, মানুষ ও পথের গল্পে অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ।

অভিযান
তিস্তা-টেকনাফ অভিযান: কায়াকে একা বাংলাদেশে ৪৮ দিন
উত্তরের সীমান্তের কাছে তিস্তা থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ—বাংলাদেশের নদীপথে ৯৫০ কিলোমিটারের বেশি একক কায়াক অভিযান, ২৫ জেলা আর ৪৮ দিনের যাত্রা।

অভিযান
পিসাং পিক সোলোঃ বাংলাদেশের প্রথম সফল শীতকালীন সোলো পর্বতারোহণ অভিযান
নেপালের ৬,০৯১ মিটার পিসাং পিকে শীতকালীন, সেলফ-সাপোর্টেড আরোহণ — বাংলাদেশের কোনো পর্বতারোহীর প্রথম একক ছয়-হাজারী সামিট।
